উপকরণ উৎপাদ সহগ (Input-Output Coefficient)

 অর্থনীতি এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় উপকরণ উৎপাদ সহগ (Input-Output Coefficient) বা প্রযুক্তিগত সহগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য (Output) উৎপাদন করতে কী পরিমাণ কাঁচামাল বা উপকরণ (Input) প্রয়োজন, তার অনুপাতকে বোঝায়।

সহজ কথায়, এক একক উৎপাদ (Output) তৈরি করতে যে পরিমাণ উপকরণের প্রয়োজন হয়, তাকেই উপকরণ উৎপাদ সহগ বলে।

মূল ধারণা ও গাণিতিক রূপ

যদি আমরা কোনো একটি শিল্পে একটি নির্দিষ্ট পণ্য উৎপাদন করতে চাই, তবে আমাদের বিভিন্ন উপকরণ (যেমন: শ্রম, কাঁচামাল, বিদ্যুৎ ইত্যাদি) ব্যবহার করতে হয়। এই সম্পর্কের গাণিতিক রূপটি হলো:



একটি উদাহরণ

ধরা যাক, একটি পোশাক কারখানায় ১০০টি শার্ট তৈরি করতে ২০০ মিটার কাপড় প্রয়োজন হয়। এখানে:

  • উৎপাদ (Output) = ১০০টি শার্ট।

  • উপকরণ (Input) = ২০০ মিটার কাপড়।

তাহলে উপকরণ উৎপাদ সহগ হবে: $200 / 100 = 2$। অর্থাৎ, প্রতিটি শার্ট তৈরির জন্য গড়ে ২ মিটার কাপড় প্রয়োজন। এখানে '২' হলো কাপড় ও শার্টের মধ্যকার উপকরণ উৎপাদ সহগ।

গুরুত্ব

১. উৎপাদন পরিকল্পনা: একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কতটুকু কাঁচামাল কিনতে হবে, তা এই সহগের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়।

২. ব্যয় নিয়ন্ত্রণ: উপকরণের অপচয় হচ্ছে কি না তা বুঝতে এটি সাহায্য করে। যদি সহগের মান হঠাৎ বেড়ে যায়, তবে বুঝতে হবে অপচয় হচ্ছে।

৩. প্রযুক্তিগত দক্ষতা: উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সাধারণত এই সহগের মান কমে আসে (অর্থাৎ কম উপকরণে বেশি উৎপাদন সম্ভব হয়)।

৪. লিওনতিয়েফ মডেল: বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ ওয়াসিলি লিওনতিয়েফ তার 'Input-Output Analysis'-এ এই সহগ ব্যবহার করে একটি দেশের বিভিন্ন শিল্পের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ব্যাখ্যা করেছেন।

Post a Comment

Thank you for your message. We will get back to you soon.

Previous Post Next Post